• আজ ৯ই কার্তিক, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ

কুলিয়ারচরে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সর্ববৃহৎ দূর্গোৎসবে ৩৪ পূজামন্ডপে দুর্গাপূজা শুরু

ষষ্ঠী পূজার মধ্যদিয়ে শুরু হয়েছে দেশব্যাপী সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব দুর্গাপূজা।

সর্ববৃহৎ এ দূর্গোৎসবের সকল প্রস্তুতি শেষে কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচর উপজেলার ১টি পৌরসভা সহ ৬টি ইউনিয়নের মোট ৩৪টি পূজামন্ডপে আজ (১১ অক্টোবর) সোমবার থেকে শুরু হয়েছে শারদীয় দুর্গোৎসব।

শান্তি, সাম্য আর ভ্রাতৃত্বের অমর বাণী শোনাতে প্রতি বছর শারদীয় উৎসবে স্বর্গলোক থেকে মর্ত্যে আসেন দুর্গতিনাশিনী মহামায়া মা দুর্গা। ভক্তদের ডাকে সাড়া দিয়ে এক বছর পর পর মা আসেন। ধর্মের গ্লানি আর অধর্ম রোধ, সাধুদের রক্ষা, অসুরদের বধ আর ধর্ম প্রতিষ্ঠার জন্য দুর্গর্তিনাশিনী দেবী দুর্গা প্রতি বছর ভক্তদের মাঝে আবির্ভূত হন।

শান্তিপূর্ণভাবে এ উৎসবটি পালন করার জন্যে এরই মধ্যে কয়েক স্তর বিশিষ্ট নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে স্থানীয় প্রশাসন।

গতকাল ১০ অক্টোবর সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, পূজামন্ডপগুলো আনন্দ ঘন ও প্রাণবন্ত পরিবেশে মন্দির কমিটির উদ্যোগে প্যান্ডেল, গেইট, তোরণ ও আলোকসজ্জা সহ বিভিন্ন ধরনের সাজ-সজ্জায় সাজানো হয়েছে। একেক মন্দিরে একেক আঙ্গিকে সাজানো হয়েছে প্রতিমাকে। যার যেমন সাধ্য সেই সাধ্য অনুযায়ী সাজ-সজ্জা করা হয়েছে।

দুর্গোৎসবকে শান্তিপূর্ণ করতে উপজেলা প্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে একটি তালিকা তৈরি করে নিরাপত্তা ব্যবস্থা সহ অনুদান বরাদ্দের ব্যবস্থা করা হয়েছে। প্রতিটি পূজামন্ডপে রয়েছে কয়েক স্তরবিশিষ্ট নিরাপত্তা ব্যবস্থা। তবে প্রতিবছর ব্যাপক আনন্দ উৎসবের মধ্য দিয়ে দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হলেও গত বছরের ন্যায় এ বছরও করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবে সামাজিক দূরুত্ব বজায় রেখেই পালন করা হবে দুর্গোৎসব।
পূজা উৎযাপন কমিটি ও স্থানীয় প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, এ বছর উপজেলার ১টি পৌরসভা সহ ৬টি ইউনিয়নে মোট ৩৪টি মন্ডপে দূর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এর মধ্যে পৌর এলাকায় ১২টি, গোবরিয়া আব্দুল্লাহপুর ইউনিয়নে ১টি, রামদী ইউনিয়নে ৫টি, উছমানপুর ইউনিয়নে ৩টি, ছয়সূতী ইউনিয়নে ৩টি, সালুয়া ইউনিয়নে ৮টি ও ফরিদপুর ইউনিয়নে ২টি পূজামন্ডপে পূজা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। তবে গত বছরের তুলনায় এ বছর ২টি প্রতিমা বেশী হচ্ছে।

সকল প্রস্ততি শেষে পঞ্চমী তিথিতে মা দুর্গাদেবীর বোধন, আমন্ত্রণ ও অধিবাসের মাধ্যমে ঢাক-ঢোল, কাঁশি, বাঁশি বাজিয়ে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের বৃহৎ ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজার মূল আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়েছে। যা আগামী ১৫ অক্টোবর শুক্রবার সকালে প্রতিমা বিসর্জ্জনের মধ্য দিয়ে সমাপ্ত হবে। শারদীয় দূর্গোৎসবকে ঘিরে শিশির ভেজা দুর্বাঘাসের উপর ঝরেপড়া বকুল ফুল কুড়ানোর সময়টাতে মাতৃবন্ধনায় মিলিত হবেন মাতৃভক্ত সবাই।

দুর্গোৎসবকে ঘিরে উপজেলার জনপদে আনন্দের হাওয়া বইছে। ইতোমধ্যেই হিন্দু ধর্মালম্বীদের ঘরে ঘরে নতুন জামা-কাপড় সহ কেনা-কাটা সম্পন্ন হয়েছে ঘরের প্রয়োজনীয় জিনিস পত্র। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও বন্ধু বান্ধবদের পূজার শুভেচ্ছাবার্তা সহ নিমন্ত্রণের হাওয়া বইছে।
এ ব্যাপারে উপজেলা পূজা উদযাপন কমিটির সভাপতি এ্যাড. মনমথ চন্দ্র দাস ও ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক নন্দলাল দাস জানিয়েছেন, গতবারের তুলনায় এবার ২টি পূজা বেশী অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এখন পর্যন্ত উপজেলার কোন মন্ডপে অপ্রীতিকর কোন ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি। সর্বত্রই শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বিরাজ করছে। তবে যে সমস্ত মন্ডপগুলিতে লোক সমাগম বেশী হবে এবং বাজার কেন্দ্রীক সেগুলিকে অতিগুরুত্বের সাথে দেখার জন্য প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রতি আহবান জানিয়েছেন তারা।

থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ গোলাম মোস্তফা জানিয়েছেন, গত ৪ অক্টোবর সোমবার বিকালে থানা হলরুমে প্রতিটি মন্ডপের সভাপতি-সম্পাদক সহ উপজেলা পূজা উদযাপন কমিটির সভাপতি- সম্পাদকদের সাথে মত বিনিময় করা হয়েছে। অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে ইতোমধ্যে এলাকায় পুলিশী টহল জোরদার ও মন্ডপগুলোতে নজরদারী বাড়ানো হয়েছে। এ ছাড়া প্রতিটি মন্ডপ কমিটির স্বেচ্ছাসেবক বাহিনীকে মন্ডপ পাহারা দেওয়ার জন্য বলা হয়েছে।

বিশুদ্ধ পঞ্জিকা অনুযায়ী, এবার দেবী দুর্গা আসছেন ঘোড়ায় চড়ে আর যাবেন দোলায় চড়ে। ঘোড়া এমন একটি বাহন যা যুদ্ধের ইঙ্গিত দেয়। অর্থাৎ এই সময়ে যুদ্ধ, অশান্তি, হানাহানির সম্ভাবনা থাকে।

এসএস/জেটএস


করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন সময়ের সংবাদে । আজই পাঠিয়ে দিন মেইলে - smersngbd@gmail.com

<