• আজ ১০ই বৈশাখ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ

‘আল্লামা মাহমূদুল হাসানই পারেন রক্তপাতহীন নীরব বিপ্লব ঘটাতে’

| ডেস্ক এডিটর ৪:১৭ পূর্বাহ্ণ | ফেব্রুয়ারি ১৬, ২০২১ ইসলাম

রিদওয়ান হাসান
শিক্ষক যাত্রাবাড়ী মাদরাসা

শেষ হলো মজলিসে দাওয়াতুল হক বাংলাদেশ-এর ২6তম বার্ষিক ইজতিমা। দাওয়াতুল হকের প্রধান কার্যালয় জামিয়া ইসলামিয়া দারুল উলূম মাদানিয়া যাত্রাবাড়িতে দিনব্যাপী এই ইজতেমা অনুষ্ঠিত হয়। ইজতেমার মূল পর্ব ১৩ ফেব্রুয়ারি শনিবার থেকে শুরু হলেও বৃহস্পতিবার রাত থেকেই ভিড়তে থাকে মানুষ। প্রায় ৬৪ হাজার গ্রামবাংলা থেকে লোকের সমাগম ঘটে এই ইজতেমায়।

থেকে থেকে মানুষের গুঞ্জরণে একপর্যায়ে মাঠে তিল ধারণের ঠাইটুকু থাকে না। বাদ ফজর মুহিউস সুন্নাহ আল্লামা মাহমূদুল হাসান আগত মেহমানদের উদ্দেশ্যে স্বাগত বক্তব্য রাখলেও ইজতেমার মূল পর্ব আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয় সকাল ৯টায় পবিত্র কোরআন তেলাওয়াতের মাধ্যমে।
সকাল দশটার মধ্যেই ঢাকাসহ বাইরের জেলা-বিভাগ থেকে আত্মশুদ্ধি ও জীবনের সকল ক্ষেত্রে সুন্নতের অনুসরণের প্রেরণায় আগত উলামায়ে কেরাম ও দ্বীনদার মুসলমানদের অংশগ্রহণে মসজিদ ও মসজিদের সামনের বারান্দা, সামিয়ানা টাঙ্গানো চত্বরসহ মাদরাসার মাঠ ও আশপাশের এলাকা কানায় কানায় ভরে যায়।

ইজতেমায় বিভিন্ন জেলার আমীর, নায়েবে আমীর ও কর্মীরাসহ দেশের আলেম-উলামা, ছাত্র শিক্ষকরাও যোগ দেন। পাশাপাশি ইজতেমার বিশেষ আকর্ষণ হিসেবে থাকেন মুহিউস সুন্নাহ মাওলানা আবরারুল হক রহ. এর খুলাফাগণ। উপস্থিত ছিলেন মুফতি মনসূরুল হক, মাওলানা হিফজুর রহমান, প্রফেসর হামিদুর রহমান, মুফতি মিযানুর রহমান সাঈদ, প্রফেসর গিয়াস উদ্দীন, অধ্যক্ষ মিজানুর রহমান চৌধুরী প্রমুখ।ইজতেমায় তাদের আলোচনায় উঠে আসে মজলিসে দাওয়াতুল হকের আগাগোড়া ইতিহাস। তাদের আলোচনায় প্রাঞ্জলভাবে ফুটে ওঠে হাকীমুল উম্মত আশরাফ আলী থানভী রহ. সূচিত এই দাওয়াতুল হক কালপরিক্রমায় কিভাবে বাংলাদেশের আমীরুল উমারার হাতে ন্যস্ত হয় এর গুরুদায়িত্ব।

দাওয়াতুল হকের ইজতেমা মানেই দেশের সর্বস্থরের মানুষ ও আলেম-ওলামাদের মিলনমেলা। দেশ বরেণ্য ওলামায়ে কেরামের পদভারে গতকাল সারাদিনই ছিল জামিয়া প্রাঙ্গন মুখরিত। কখনো গুরুত্বপূর্ণ বয়ান, কখনো আজান-ইকামতের আমলি মশক, কখনো নামাযের আমলি মশক, সহিহ কুরআনের মশক,কখনো আত্মশুদ্ধির গুরুত্বপূর্ণ আলোচনার মধ্য দিয়ে ইজতিমা চলতে থাকে। সবার মুখে একটাই অনুভূতি ছিল আল্লামা মাহমূদুল হাসানই পারেন নবী করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সুন্নতের মাধ্যমে রক্তপাতহীন নীরব বিপ্লব ঘটাতে।

ইজতেমায় বাদ জোহর আমীরুল উমারা আল্লামা মাহমূদুল হাসান বয়ান পেশ করেন। বয়ানে তিনি বলেন, এই ঘুণে ধরা সমাজকে পরিবর্তন করতে হলে মহব্বতের সাথে কাজ করতে হবে। শুধু মানুষের সমালোচনা করলে হবে না। আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মানুষকে মহব্বতের সাথে দাওয়াত দিয়েছেন। যারা তার বিরোধিতা করেছেন তাদেরও মহব্বতের সাথে দাওয়াত দিয়েছেন বলে সমাজে ইসলাম প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।ইজতেমায় বাদ আসর উপস্থিত থাকেন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জনাব আসাদুজ্জামান খান কামাল এবং ধর্মমন্ত্রী ফরিদুল হক খান দুলাল। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেন, প্রধানমন্ত্রী কুরআন-সুন্নাহর বাইরে যাবেন না, এটা তার ওয়াদা। তিনি পাঁচওয়াক্ত নামাজ পড়ে প্রতিদিনের কাজ শুরু করেন। কুরআন তেলাওয়াত করেন। ইসলামের পক্ষে কাজ করেন।
তিনি আরো বলেন, আমরা কুরআনের কথা শুনতে চাই। ইসলামের কথা শুনতে চাই। আমাদের কোনখানে ভুল রয়েছে সেটা শুধরে নিতে চাই। এজন্য আলেমদের সাথে আমার সুসম্পর্ক।এদিকে প্রথমবারের মতো ইজতেমায় এসেছেন ধর্মমন্ত্রী জনাব ফরিদুল হক খান দুলাল। তিনি বলেন, আমি আজকে মজলিসে দাওয়াতুল হক বাংলাদেশের এ মজলিসে এসে অনেক শান্তি পেয়েছি। সেটা হলো আমি ঢুকেই সালাম দিলাম। সালামের সময় হাত কপালের ওপর তুলেছিলাম। তখন আল্লামা মাহমূদুল হাসান বললেন, এখানে হাত তুলতে হবে না। আর সালামের পরে বুকে হাত দিতে হবে না। আমি অনেক সময় বুকে হাত দিয়ে ফেলি। এখানে এসে এ শিক্ষাটি পেয়ে নিজের কাছে অনেক ভালো লাগছে।

সময় যত বাড়তে থাকে, মজলিস তত ঘনীভূত হতে থাকে। লোকে লোকারণ্য হতে থাকে জামিয়ার ময়দান। বাংলাদেশের দেশবরেণ্য উলামা-মাশায়েখের পদচারণায় ইজতিমা ছিল সত্যিই মুখরিত। একেক জনের বক্তব্যের প্রভাবে হয়ত অনেকের দেহ-মন কাঁপিয়ে তুলেছে। সৎপথে পরিচালনার জন্য উদ্বুদ্ধ করেছে। নবীচরিতের মতো নিজেদের জীবন রাঙাতে অনেককেই করেছে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ।ইজতেমায় বিশিষ্ট ওলামায়ে কেরামের মধ্যে যারা বয়ান করেছেন, তাদের অন্যতম হলেন, ঢালকানগরের পীর সাহেব মুফতি জাফর আহমদ, তুরুষ্ক থেকে আগত শায়খ মুনীর তুরান, মাওলানা আব্দুল মতিন বিন হুসাইন, মাওলানা নুরুল ইসলাম জিহাদি, মুফতি ওয়াক্কাস, চরমোনাই পীর সাহেব মুফতি ফয়জুল করীম, বেফাক মহাসচিব মাওলানা মাহফুজুল হক, মাওলানা বাহাউদ্দীন জাকারিয়া, মাওলানা মঞ্জুরুল ইসলাম আফেন্দি, মাওলানা মুনাওয়ার হুসাইন, মুফতি নূরুল ইসলাম, মাওলানা আবুল হাসান ফয়সাল, মাওলানা নুর হোসেন কাসেম প্রমুখ।মেহমানদের বয়ানের ধারাবাহিকতা শেষ হতে হতে রাত আটটা বেজে যায়। এরপর মুহিউস সুন্নাহ আল্লামা মাহমূদুল হাসান গুরুত্বপূর্ণ আখেরি ও হেদায়াতি বয়ান ও মোনাজাতের মাধ্যমে এই মারকাজি ইজতেমার আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়।

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন সময়ের সংবাদে । আজই পাঠিয়ে দিন Smersngbd.com@gmail.com মেইলে - Smersngbd.com@gmail.com