• আজ ৭ই বৈশাখ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ

ঐক্যবদ্ধ হয়ে ফ্যাসিবাদী সরকারকে সরাতে হবে

| ডেস্ক এডিটর ৭:২৮ পূর্বাহ্ণ | নভেম্বর ১৫, ২০২০ জাতীয়

বিএনপিকে নিশ্চিহ্ন করতে সরকার ‘ফাঁদ পাতার পুরনো খেলা’শুরু করেছে বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

গতকাল শনিবার জাতীয় প্রেস ক্লাব মিলনায়তনে বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের (বিএফইউজে) দ্বিবার্ষিক সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন।
গত বৃহস্পতিবার রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে যাত্রীবাহী বাসে আগুন লাগানোর ঘটনার প্রসঙ্গ টেনে বিএনপি মহাসচিব অভিযোগ করেন,আপনারা লক্ষ করেছেন,ঢাকায় কতগুলো বাস পুড়িয়ে দিয়েছে দুর্বৃত্তরা,কে বা কারা। সেটাকে আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দ সম্পূর্ণভাবে বিএনপির ওপর দোষ চাপানোর চেষ্টা করছে। সেই আগের খেলা, সেই ওল্ড গেম।

তারা এজেন্টদের দিয়ে এই সব নাশকতামূলক কাজ করবে আর বিএনপির ওপর দোষ চাপিয়ে দেবে। আপনাদের মাধ্যমে আমি জানাতে চাইÑ কেউ যেন এই ধরনের ট্র্যাপের মধ্যে পা না দেয়, এই ফাঁদের মধ্যে কেউ যেন পা না দেয়।জনগণকে সাথে নিয়ে আমাদের আন্দোলন করতে হবে,জনগণকে সাথে নিয়ে আমাদেরকে এগোতে হবে।এভাবে নাশকতা কাজ যারা করছে তাদের সাথে কোনো মতেই বিএনপির কোনো সম্পর্ক নেই এবং আমি তীব্র ভাষায় এই ঘটনার নিন্দা জানাচ্ছি এবং যারা এ কাজের সাথে জড়িত তাদের খুঁজে বের করার আহ্বান জানাচ্ছি।

এই অবস্থা থেকে বেরিয়ে আসতে জাতীয় ঐক্য গড়ে তোলার আহ্বান জানান বিএনপি মহাসচিব।‘মাইনাস ওয়ান ষড়যন্ত্র চলছে’:মির্জা ফখরুল বলেন,আজকে অত্যন্ত সুপরিকল্পিতভাবে একদিকে যেমন মত প্রকাশের স্বাধীনতাকে হরণ করা হচ্ছে এবং তাদের বিরুদ্ধে যাতে কেউ কথা বলতে না পারে তার ব্যবস্থা করা হচ্ছে,অন্য দিকে রাজনীতিকে একেবারে পুরোপুরিভাবে নিজের আয়ত্তে নিয়ে এসে বিরাজনীতিকীকরণের প্রক্রিয়া শুরু করেছে।এদের সাথে যে মইনুদ্দিন-ফখরুদ্দীন সরকার তাদেরই ধারাবাহিকতায় এরা (সরকার) কাজ করে যাচ্ছে।

সেই একইভাবে এখন মাইনাস ওয়ান ফর্মুলা নিয়ে বিএনপিকে নির্মূল করার ষড়যন্ত্রে তারা লিপ্ত হয়েছে।
তিনি বলেন, ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে গণতান্ত্রিক আন্দোলন সহজ নয়। এই আন্দোলন দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে,এই আন্দোলনে অনেক আত্মত্যাগের প্রয়োজন হতে পারে।
সেজন্য আজকে আমাদের সবাইকে সব পেশার মানুষকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে সাংবাদিক-আইনজীবী-চিকিৎসক-প্রকৌশলী-রাজনীতিক সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে এই দেশকে বাঁচাতে হলে ১৯৭১ সালে যে চেতনা নিয়ে স্বাধীনতা যুদ্ধ করেছিলাম সেই চেতনা অর্থাৎ গণতান্ত্রিক চেতনাকে সমুন্নত রাখার জন্য আবার আমরা ঐক্যবদ্ধ হয়ে এই যে ফ্যাসিবাদী ভয়াবহ একটা দানবীয় সরকার তাকে সরাতে হবে,এ ছাড়া আর কোনো বিকল্প নেই।

তিনি অভিযোগ করে বলেন,প্রায় এক যুগ ধরে তারা অত্যাচার-নির্যাতনের মধ্য দিয়ে ক্ষমতায় টিকে আছে। আজকে রাষ্ট্রই একটি সন্ত্রাসীতে পরিণত হয়েছে। বাংলাদেশ এখন গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র নয়, বাংলাদেশের রাষ্ট্র জনগণের জন্য নয়, রাষ্ট্র এখন কিছু অত্যাচার-নির্যাতনকারী লুটেরাদের হাতে পড়ে গেছে এবং এই রাষ্ট্রটিকে তারা সন্ত্রাসী রাষ্ট্রে পরিণত করেছে।
আপনি দেখেন,আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী,বিচার বিভাগ,প্রশাসন সব কিছুকে নিয়ন্ত্রণ করে তারা ছদ্মবেশে এক দলীয় শাসনব্যবস্থা ফ্যাসিস্ট কায়দায় চালাচ্ছে।
গণমাধ্যমের সাংবাদিকদের দুরবস্থার কথা উল্লেখ করে মির্জা ফখরুল বলেন,আমরা জানি আমাদের সাংবাদিক ভাইয়েরা অত্যন্ত কষ্টের মধ্যে দিন যাপন করছেন। বেশির ভাগ সাংবাদিক ভাইয়ের কাজ নেই, তারা কোথাও চাকরি পাচ্ছেন না অথবা চাকরি থাকলেও তাদের সেখান থেকে চলে যেতে হচ্ছে,তাদের ছাঁটাই করা হচ্ছে। আমরা জানি,তাদের কী নিদারুণ কষ্টের মধ্যে পরিবার-পরিজন নিয়ে বাস করছেন।কিন্তু এটা শুধু আপনারা নন। আপনারা এতটুকু মনে রাখবেন সারা দেশের মানুষ আজকে এই কষ্টে পড়েছেন। যারাই স্বাধীনতায় বিশ্বাস করে,যারাই গণতন্ত্রে বিশ্বাস করে, যারাই আইনের শাসনে বিশ্বাস করে,যারা গণতন্ত্রে বিশ্বাস করে তাদেরই আজকে নির্যাতনের সম্মুখীন হতে হচ্ছে এবং তাদের কোনো কারণ ছাড়াই যখন-তখন ধরে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে।

তিনি বলেন,আজকে দেখুন,যারা জাতীয়তাবাদী রাজনীতিতে বিশ্বাস করে শুধু তারাই নয়,সংবাদপত্র যারা চালান,সরকারের বিরুদ্ধে কথা বলেন তাদেরও সরকার ছাড় দেয় না।দেখুন প্রথম আলোর মতো এত বড় পত্রিকার সম্পাদক মতিউর রহমান সাহেব তার বিরুদ্ধে একটা হত্যামামলার চার্জশিট দিয়ে দেয়া হয়েছে। এভাবে দেখবেন অসংখ্য সাংবাদিককে আজকে নির্যাতন-নিপীড়নের সম্মুখীন হতে হচ্ছে।

আমরা বারবার এসবের বিরুদ্ধে কথা বলেছি, নিন্দা জানিয়েছি। একটা দুঃখের বিষয় যে, আজকে আমাদের রাজনীতি যেমন বিভক্ত হয়ে গেছে, আপনাদের সাংবাদিক সমাজও বিভক্ত হয়ে আছে।সে কারণে অনেকটা দুর্বল অবস্থা সাংবাদিকদের, তাদের নিজস্ব যে স্বার্থ সেই স্বার্থ রক্ষা করতে পারছেন না।আমি সবসময় বলি, সাংবাদিকদেরকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে,আপনারা ঐক্যবদ্ধ হয়ে আপনাদের পেশা সংক্রান্ত যে সমস্ত দাবি সেই সব দাবি নিয়ে এগোতে পারেন।

বিএনপি মহাসচিব বলেন,আইনগুলো তৈরি হচ্ছে একটার পর একটা। কিন্তু আমরা কোনো প্রতিরোধ গড়ে তুলতে পারছি না, সাংবাদিক ভাইয়েরাও কোনো প্রতিরোধ গড়ে তুলতে পারছেন না। ডিজিটাল সিকিউরিটি অ্যাক্ট, অন্য আইনগুলো সাংবাদিকদের স্বাধীনভাবে মত প্রকাশের বিরুদ্ধে গেছে। কিন্তু আজকে দেখুন কী দুর্ভাগ্য যে, সেখানে আমরা সেভাবে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে পারছি না, সেখানে সরকারকে বাধ্য করতে পারছি না।

বিএফইউজের সভাপতি রুহুল আমিন গাজীসহ গ্রেফতার হওয়া সাংবাদিকদের অবিলম্বে মুক্তির দাবিও জানান তিনি।বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন,দেশে নিশ্চয়ই একটা চরম দুঃসময় যাচ্ছে।আমরা সবাই একটা চরম দুঃসময় অতিক্রম করছি।তবে দেশে এত সঙ্কট চলছে যে, এখানে সবকিছু তেমন বলা যাবে না। তবে আমি এতটুকু আশাবাদী যে, বাংলাদেশের চলমান রাজনীতি নিয়ে সর্বত্র যে চরম হতাশা,জনগণের মাঝে যে দিনে দিনে উদ্বেগ-হতাশা বৃদ্ধি পাচ্ছে,ফ্যাসিবাদী শাসনের অত্যাচার-নির্যাতন আর জুলুমের যে ক্ষোভের আগুন জলছে,তার জন্য মানুষ দ্রুত একটা পরিবর্তন চায়।

তিনি বলেন,এই সরকার পুলিশি রাষ্ট্র গঠনের মাধ্যমে যেভাবে মানুষের দাবি আদায়,মানবাধিকার রক্ষা, অর্থনৈতিক মুক্তি,ভাত,কাপড়,চিকিৎসা,বাসস্থানসহ গণতন্ত্র রক্ষার সংগ্রামকে স্তব্ধ করতে চাচ্ছে,তাতে চার দিকে ক্ষোভের আগুন ক্রমেই বাড়ছে।এতে মানুষ বলছে, কবে এই অমানিসার যবনিকাপাত ঘটবে;কবে আশার আলো দেখা যাবে।আপনাদের মাধ্যমে দেশবাসীকে জানাতে চাই, আমাদের রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে আলোচনা চলছে, আপনারা সাংবাদিকরা কলম দিয়ে ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে, দেশে গণতন্ত্র, স্বাধীনতা রক্ষার সংগ্রামে যে ঐতিহ্য রেখেছেন,সবাই মিলে আমরা যদি সেই ঐতিহ্যকে ফিরিয়ে আনতে পারি, তাহলে রাজনৈতিক দলসহ সবার মাঝে যে হতাশার সৃৃষ্টি হয়েছে,অচিরেই তার অবসান ঘটবে। আমি আপনাদের বলতে চাই, সবার ঐক্যবদ্ধ সংগ্রাম অব্যাহত থাকলে এই ফ্যাসিবাদী সরকারের চরম পতন ঘটবে ইনশাআল্লাহ। সেদিন আর বেশি দূরে নয়। আপনারা সেই আন্দোলন সংগ্রামের জন্য প্রস্তুত থাকুন।

গণমাধ্যমে আরো দুঃসময় আসছে মন্তব্য করে সাবেক এই সংসদ সদস্য বলেন, দুইটি বিষয় সাংবাদিকদের মোকাবেলা করতে হচ্ছে। একটি হচ্ছে রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ; আরেকটি ডিজিটাল আইনের চ্যালেঞ্জ। রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জটা হচ্ছে ফ্যাসিবাদী সরকার আজকে ক্ষমতায় বসেছে,যারা ভিন্ন মত প্রকাশের সব অধিকার বন্ধ করেছে এবং যারা অবৈধ সরকার, ভোটার বিহীন নির্বাচনে ক্ষমতায় এসে রাষ্ট্র পরিচালনা করছে। কিছু কিছু সাংবাদিক এই অবৈধ সরকারকে নিরাপদ রাখতে লিখেন, যারা সত্যকে গোপন করেন,যারা ফ্যাসিবাদের তোষণ করেন,দালালি করেন, তাদের নিরাপদে রাখার জন্য সরকার চেষ্টা করে। কিন্তু যারা সত্য কথা লিখেন, গণতন্ত্রের কথা বলেন,ভিন্ন মতের পক্ষে সংগ্রাম করেন, ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে যারা নিজেদের কণ্ঠ ও কলমকে উচ্চকিত করেন, তাদের এখন গ্রেফতার ও গুম করা হচ্ছে। রাজনৈতিক এমন ফ্যাসিবাদী সরকারের যাঁতাকলে আমরা পড়েছি। সেই চ্যালেঞ্জ আমাদের মতো আপনাদেরও মোকাবেলা করতে হচ্ছে।

তিনি বলেন,এই সরকার আজকে বিএফইউজের সভাপতি রুহুল আমিন গাজী,বর্ষীয়ান সম্পাদক আবুল আসাদ, ফটো সাংবাদিক কাজল,নির্যাতিত সাংবাদিক গোলাম সরোয়ারসহ যারা নির্যাতিত,তাদের যে আর্তচিৎকার, তাদের প্রতি যে জুলুম এবং মিথ্যাচার চলছে, এটি সাংবাদিক সমাজ রাজনৈতিকভাবে আপনাদের মোকাবেলা করতে হচ্ছে। এই রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করার জন্য ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন যেভাবে ঐক্যবদ্ধ আছে তা অক্ষুণœ রাখার জন্য ভবিষ্যতে আরো বেশি ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে।

বিএফইউজের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি নুরুল আমিন রোকনের সভাপতিত্বে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সংগঠনের মহাসচিব এম আবদুল্লাহসহ বিভিন্ন জেলা ইউনিয়নের নেতারা বক্তব্য রাখেন।অনুষ্ঠানে এ ছাড়াও বক্তব্য রাখেন বিএফইউজের সাবেক সভাপতি শওকত মাহমুদ,জাতীয় প্রেস ক্লাবের সাবেক সভাপতি কামাল উদ্দিন সবুজ, বিএফইউজের সাবেক নেতা এম এ আজিজ,ডিইউজের সাবেক সভাপতি আবদুল হাই শিকদার,সাবেক সাধারণ সম্পাদক মুহাম্মদ বাকের হোসাইন, বর্তমান সভাপতি কাদের গনি চৌধুরী, সাধারণ সম্পাদক মো: শহিদুল ইসলাম প্রমুখ।

, ,

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন সময়ের সংবাদে । আজই পাঠিয়ে দিন Smersngbd.com@gmail.com মেইলে - Smersngbd.com@gmail.com