• আজ ৯ই বৈশাখ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ

গোয়েন্দা রিমান্ডে বেরিয়ে এসেছে বিএনপির আরও নেতাকর্মীর নাম

| ডেস্ক এডিটর ৬:৫৯ পূর্বাহ্ণ | নভেম্বর ১৫, ২০২০ জাতীয়

বাসে অগ্নিসংযোগের ঘটনায় গ্রেপ্তারকৃত ৪১ জনের মধ্যে রিমান্ডে থাকা ৩২ আসামির অনেকেই গোয়েন্দা জিজ্ঞাসাবাদে মুখ খুলতে শুরু করেছে।অগ্নিসংযোগের সময় তাদের কার কী ভূমিকা ছিল,এতে বিএনপির নেতাকর্মীসহ আর কারা অংশ নিয়েছিল,সেটাও তারা গোয়েন্দাদের জানিয়েছে।পুলিশের হাতে থাকা অগ্নিসংযোগের ভিডিও ফুটেজ দেখা তারা অনেকে সহযোগীদের শনাক্তও করেছে। কেউ কেউ অগ্নিসন্ত্রাসের নীল নকশার মূল পরিকল্পনাকারীদের নামও জানিয়েছে গোয়েন্দাদের।

তদন্তে-সংশ্লিষ্ট গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের সূত্রগুলো জানায়, রিমান্ডে থাকা আসামিদের জিজ্ঞাসাবাদে যে তথ্য পাওয়া গেছে, এতে বৃহস্পতিবার আকস্মিকভাবে বাসে আগুন দেওয়া হয়নি। এর পরিকল্পনা আগেই তৈরি করা হয়েছিল। কারা, কখন, কীভাবে এতে অংশ নেবে, সেটাও আগভাগেই ঠিক করে রেখেছিল তারা।

এ কারণে স্বল্প সময়ের মধ্যে ১৫টি বাসে আগুন দিতে তাদের বেশি বেগ পেতে হয়নি। অগ্নিসংযোগের পর তারা দ্রম্নত কোন পথে পালিয়ে যাবে- সে পথও তারা আগেই রেকি করে রেখেছিল বলে গোয়েন্দাদের কাছে স্বীকার করেছে রিমান্ডে থাকা বেশ কয়েকজন আসামি।

তদন্তে সংশ্লিষ্ট গোয়েন্দারা জানান,রিমান্ডে থাকা আসামিদের তথ্য বিশ্লেষণে বাসে অগ্নিসংযোগের ঘটনায় সরাসরি অংশ নেওয়া আরও এক ডজন ব্যক্তিকে প্রাথমিকভাবে চিহ্নিত করা গেছে। যাদের বেশিরভাগই বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মী। এ ছাড়া বেশ কয়েকজন ভাড়াটে দুর্বৃত্ত রয়েছে বলেও জানা গেছে। এসব তথ্য এখন বিভিন্নভাবে ক্রসচেক করা হচ্ছে।

তদন্তে তাদের অগ্নিসংযোগের ঘটনায় সম্পৃক্ত থাকার প্রমাণ পাওয়া গেলে দ্রম্নত গ্রেপ্তার করা হবে। এ ক্ষেত্রে কে কোন পর্যায়ের নেতা, সেটা বিবেচনা করা হবে না বলে তদন্ত সুপারভিশনের দায়িত্বে থাকা ঊর্ধ্বতন গোয়েন্দা কর্মকর্তারা জানান।

ডিসি পদমর্যাদার একজন কর্মকর্তা যায়যায়দিনকে জানান, রিমান্ডে থাকা আসামিদের জিজ্ঞাসাবাদে বেশকিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে। এসব তথ্য গুরুত্বের সঙ্গে যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। এ ছাড়া বাসে অগ্নিসংযোগের ভিডিও ফুটেজ পর্যালোচনা করে আসামিদের চিহ্নিত করারও চেষ্টা চলছে বলে জানান তিনি।

এদিকে ডিএমপির একটি দায়িত্বশীল সূত্রে জানা গেছে, বিভিন্ন থানায় দায়েরকৃত মামলায় আসামিদের রিমান্ডে আনা হলেও তদন্তের স্বার্থে তাদের গোয়েন্দা প্রধান কার্যালয়ে রেখে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে তদন্তে সংশ্লিষ্ট একজন গোয়েন্দা কর্মকর্তা এই প্রতিবেদককে জানান, গ্রেপ্তারকৃত আসামিরা গোয়েন্দাদের জিজ্ঞাসাবাদে অগ্নিসংযোগে অংশগ্রহণকারী যাদের নাম জানিয়েছে,তাদের প্রায় সবারই মোবাইল ফোন সংযোগ বন্ধ রয়েছে।তাদের বাসাবাড়িতে খোঁজ নিয়েও তাদের পাওয়া যায়নি।এমনকি তাদের অনেকেই অগ্নিসংযোগের ঘটনার পরপরই ঢাকা ছেড়েছেন। ফলে তাদের ট্রেস করা কিছুটা কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে।এ কারণে এখন ভিন্ন উপায়ে তাদের অবস্থান শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে বলে জানান ওই গোয়েন্দা কর্মকর্তা।

এদিকে বৃহস্পতিবার মাত্র কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে ১৫টি বাসে অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটলেও এতে কেউ হতাহত না হওয়ার নেপথ্যে বিশেষ কোনো অভিসন্ধি রয়েছে কিনা, গোয়েন্দারা তা গভীরভাবে খতিয়ে দেখছে। তাদের ধারণা, ২০০৫ সালে একটি রাজনৈতিক দলের অগ্নিসন্ত্রাসে বিপুলসংখ্যক মানুষের মৃতু্যর পর তাদের অস্তিত্ব অনেকটাই বিলীন হয়ে গেছে।

এ কারণে এবারের অগ্নিসন্ত্রাসের ঘটনায় যাতে কোনো প্রাণহানির ঘটনা না ঘটে, সে দিকে এসব ঘটনার নীল নকশাকারীরা নজর দিয়েছে। দ্রম্নত এই চক্রের মূল হোতাদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনা না গেলে আগামীতে যেকোনো তুচ্ছ রাজনৈতিক ইসু্যতে একই ধরনের নাশকতার ঘটনা ঘটতে পারে বলে মনে করেন গোয়েন্দারা।

এদিকে উপ-পুলিশ কমিশনার ওয়ালিদ হোসেন জানান, রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় একযোগে বাসে অগ্নিসংযোগের তদন্তে অধিকাংশ ক্ষেত্রেই দলীয় পরিচয় পাওয়া গেছে। তবে এ ঘটনা ঘটানোর পেছনে জনমনে আতঙ্ক সৃষ্টির উদ্দেশ্য ছিল বলে মনে করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। এমন ঘটনা যেন আর না ঘটে, সে জন্য নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।

ওয়ালিদ হোসেন আরও বলেন,’তারা কী কারণে এ ঘটনা ঘটালেন বা তাদের উদ্দেশ্য কী ছিল,এগুলো আমরা জানার চেষ্টা করব এবং একই সঙ্গে তাদের সহযোগী কারা ছিল,তারা কাদের নির্দেশনায় এই কাজগুলো করেছে,সে বিষয়গুলো জানার চেষ্টা করব। আমরা সতর্কতা হিসেবে পুলিশের টহল,চেকপোস্ট- এগুলো বৃদ্ধির পাশাপাশি আমাদের গোয়েন্দা বৃদ্ধি করব।’

, ,

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন সময়ের সংবাদে । আজই পাঠিয়ে দিন Smersngbd.com@gmail.com মেইলে - Smersngbd.com@gmail.com