• আজ ৯ই বৈশাখ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ

এবার প্রতারণার জালে ফেঁসে গেল ইতালির কৃষি-পর্যটন ভিসা!

| ডেস্ক এডিটর ৬:৪৭ পূর্বাহ্ণ | নভেম্বর ১৫, ২০২০ জাতীয়

আট বছর নিষিদ্ধ থাকার পর ইতালিতে কৃষি-পর্যটন ভিসার দ্বার উন্মোচন হলো বাংলাদেশিদের জন্য। এতে অনেকেই বৈধভাবে সেদেশে যাবেন এমন আশায় বুক বাঁধলেও এ ভিসাকে ঘিরে ফের প্রতারণার জাল পেতেছে একটি দালাল চক্র।

সঠিকভাবে আবেদন করলেই ইতালিতে যাওয়া নিশ্চিত,এমন প্রলোভন দেখিয়ে জনপ্রতি ৮ থেকে ১৫ লাখ টাকার চুক্তি করছেন তারা।অগ্রিম হিসেবে এক থেকে তিন লাখ টাকা পর্যন্ত নিচ্ছেন। আর ভিসা হলে বাকি টাকা। বাস্তবতা হচ্ছে যোগ্য প্রার্থীর মোট খরচ হবে ১৬ ইউরো বা ১ হাজার ৬০০ টাকা।

ইতালি যাওয়াকে ঘিরে এসব প্রতারক থেকে সতর্ক থাকতে স্থানীয় প্রশাসন ও সাধারণ মানুষকে পরামর্শ দিয়েছে স্বরাষ্ট্র এবং প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়। প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, বাংলাদেশি শ্রমিকদের ইতালিতে যাওয়ার সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে এই সংবাদ পাওয়ার পর এক শ্রেণির দালাল সারাদেশে সক্রিয় হয়ে উঠেছে। সঠিকভাবে আবেদন করতে পারলেই নিশ্চিত ভিসা এমন কথা বলে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার ফাঁদ পেতেছে।

দালালদের কথায় অনেকেই ভিটে-মাটি বিক্রি করে তাদের হাতে টাকা তুলে দিচ্ছেন। অগ্রিম ১ থেকে ৩ লাখ টাকা করে নিচ্ছে এই শর্তে-যদি আবেদন গ্রহণযোগ্য হয় তবে বাকি টাকা। না হলে ৫০ হাজার থেকে ১ লাখ টাকা খরচ কেটে রেখে বাকি টাকা ফেরত দেওয়া হবে।

অর্থাৎ তারা একেকজন ১০ জন, ২০ জন বা তারও বেশি মানুষের কাছ থেকে ২ থেকে ৩ লাখ টাকা করে নিচ্ছে। একটি গ্রম্নপ ইতালির কৃষি ভিসা করিয়ে দেওয়ার নামে পত্র-পত্রিকা, স্যোশাল মিডিয়াসহ বিভিন্ন মাধ্যমে বিজ্ঞাপন দিচ্ছে। ইতোমধ্যে প্রতারণার শিকার হয়েছেন এমন কয়েকজন অভিযোগ করেছেন প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের।

এ ব্যাপারে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. আহমেদ মুনিরুছ সালেহীন বলেন, কৃষি পর্যটন ভিসা ইতালি যেতে কোনো টাকা লাগে না। সঠিক পদ্ধতিতে আবেদন করার পর কোনো ব্যক্তি যোগ্য বিবেচিত হলে তিনি বিনা পয়সা সেদেশে যেতে পারবেন। এ নিয়ে কারও সহযোগিতার দরকার নেই।

তারপরও কেউ কেউ প্রতারণার নেমেছেন। সেজন্য প্রশাসনসহ সাধারণ মানুষকে আমরা সতর্ক থাকতে বলেছি। ২০২১ সালে এশিয়ার ৮টি দেশসহ মোট ৩০টি দেশ থেকে শ্রমিক আমদানি করবে ইতালি।

এর মধ্যে ইউরোপীয় ছোট অর্থনীতির দেশগুলোর শ্রমিক এবং বিগত বছরগুলোতে শ্রমিক হিসেবে ইতালিতে ছিলেন এবং নিয়োগের মেয়াদ শেষে নিজ দেশে ফিরে গেছেন তারা অগ্রাধিকার পাবেন। সেক্ষেত্রে বাংলাদেশ কোটায় খুবই কমসংখ্যক ব্যক্তি এ সুযোগ পাবেন।প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা বলছেন,ইতালিতে কৃষি ভিসাতে কোনো শ্রমিক সরাসরি আবেদন করতে পারবে না।

শ্রমিকের পক্ষে নিয়োগদাতা মালিক অনলাইনে নির্দিষ্ট ফর্ম পুরণ করে আবেদন করবেন। এ ক্ষেত্রে আবেদনকারীর প্রতিষ্ঠানে শ্রমিক ঘাটতি দেখাতে হবে এবং তার বিগত দিনের ট্যাক্স প্রদান নিয়মিত থাকতে হবে। সুতরাং ইতালিতে যারা বৈধ মালিক তারাই শ্রমিকের জন্য আবেদন করতে পারবে। আবেদনকারী শ্রমিকদের বয়স হতে হবে কমপক্ষে ১৮।সব কিছু বিবেচনায় যোগ্য আবেদনকারী বা নিয়োগদাতার খরচ হবে ১৬ ইউরো। অর্থাৎ আবেদনের সঙ্গে ১৬ ইউরো মূল্যের একটি ডাকটিকিট সংযোগ করতে হবে।

প্রায় দুই যুগ ধরে ইতালিতে আছেন কিশোরগঞ্জ জেলার কাঞ্চন মিয়া। তিনি যায়যায়দিনকে বলেন, দালালের কথায় বিভ্রান্ত হয়ে যারা টাকা দিচ্ছেন তাদের বেশির ভাগই প্রতারিত হবেন। যে টাকা খরচ করে সিজন্যাল ভিসায় ইতালি আসবেন তারা নয় মাসে খরচের টাকা উঠাতে পারবে না। এরপর যদি অবৈধ হয়ে পালিয়ে যান, তবে তাদের মানবেতর জীবন যাপন করতে হবে। এর ফলে আবারও নতুন করে ইতালিতে বাংলাদেশি শ্রমিকদের ওপর নিষিদ্ধের খড়গ নেমে আসার আশঙ্কা তৈরি হবে।

বেশ কয়েকজন প্রবাসী জানান,২০১২ সাল থেকে দীর্ঘ আট বছর ইতালিতে বাংলাদেশি শ্রমিক নিষিদ্ধ থাকার অন্যতম কারণ ২০১২ সালের আগে যারা গিয়েছেন তাদের কেউ ভিসার মেয়াদ শেষে দেশে ফিরে যাননি। ওই সময় অধিকাংশ নিয়োগদাতা ইতালিতে আসার পর শ্রমিকদের চাকরি দেয়নি।বিমানবন্দর পার করা পর্যন্ত চুক্তি ছিল।ফলে অনেকেই ইতালিতে ঢুকেই পালিয়ে যায়। সংশ্লিষ্ট বলছেন,ইতালি প্রতিবছর সিজন্যাল চাকরি জন্য কিছু শ্রমিক আমদানি করে থাকে।

তারা সাধারণত কৃষি ও পর্যটনক্ষেত্রে নিয়োগ পেয়ে থাকেন। এ ক্যাটাগরিতে সাধারণত ৬ মাস থেকে ৯ মাসের মৌসুমি নিয়োগপত্র দেওয়া হয়।নিয়োগের মেয়াদ শেষ হলে ফিরে যেতে হয় নিজ দেশে।অনেক বছর থেকে এভাবেই চলে আসছে।প্রথম দিকে এই তালিকায় বাংলাদেশি শ্রমিকদের কোটা থাকলেও ২০১২ সাল থেকে সে কোটা বাতিল করা হয়। কৃষি ভিসায় গিয়ে ইতালির বিমানবন্দর থেকে পালিয়ে যায় বাংলাদেশের বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ দেওয়ার পর আট বছর নিষিদ্ধ ছিল।২০২১ সালের সিজন্যাল শ্রমিক আমদানির জন্য ইতালি সরকার গত ১২ অক্টোবর গেজেট প্রকাশ করেছে।

মোট ৩০ হাজার ৮৫০ জন শ্রমিকের মধ্যে ১৮ হাজার শ্রমিক ইতালিতে সর্বোচ্চ ৯ মাস থাকতে এবং কাজ করতে পারবে।১২ হাজার ৮৫০ জন শ্রমিক চাকরির জন্য স্থায়ীভাবে নিয়োগপ্রাপ্ত হবে যারা নিয়মিত থাকতে এবং কাজ করতে পারবে।এই শ্রমিদের অবশ্যই কোনো না কোনো কাজে দক্ষ হতে হবে।এর মধ্যে আলাদা করে ৬ হাজার জনের কোটা বেঁধে দেওয়া হয়েছে যারা শুধুমাত্র মালামাল বহনকারী গাড়ির চালক, আবাসিক হোটেলের কর্মচারী ও পর্যটন সংশ্লিষ্ট চাকরির জন্য নিয়োগপ্রাপ্ত হবেন।দুই ভাগে বিভক্ত করে অনলাইনে আবেদন শুরু হয়েছে গত ২২ অক্টোবর থেকে,চলবে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত।

, , ,

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন সময়ের সংবাদে । আজই পাঠিয়ে দিন Smersngbd.com@gmail.com মেইলে - Smersngbd.com@gmail.com