Breaking News

যেভাবে তিনি মনির থেকে গোল্ডেন মনির

মনিরের মেরুন বাড্ডার ১৩ নম্বর রোডের ৪১ নম্বর বাড়িতে অভিযান চালায় র‌্যাব।মনিরের মেরুল বাড্ডার ১৩ নম্বর রোডের ৪১ নম্বর বাড়িতে অভিযান চালায় র‌্যাব।
অবৈধ অস্ত্র, মাদক ও বিদেশি মুদ্রা রাখার অভিযোগে মনির হোসেন ওরফে গোল্ডেন মনিরকে র‌্যাব গ্রেপ্তার করেছে। গতকাল শুক্রবার রাত ১১টা থেকে মনিরের মেরুল বাড্ডার ১৩ নম্বর রোডের ৪১ নম্বর বাড়িতে অভিযান শুরু করে র‌্যাব।

র‌্যাবের মুখপাত্র লেফটেন্যান্ট কর্নেল আশিক বিল্লাহ জানান,নব্বইয়ের দশকে গাউছিয়া মার্কেটের একটি কাপড়ের দোকানের সেলসম্যান হিসেবে কাজ করতেন মনির।সময়ের ব্যবধানে মনির বড় ধরনের স্বর্ণ চোরাচালানকারী হিসেবে পরিচিতি লাভ করেন।

তাঁর নাম হয়ে যায় গোল্ডেন মনির।ভূমিদস্যুতার মাধ্যমে মনির অসংখ্য প্লটের মালিকও হয়েছেন।মনির হোসেনকে গ্রেপ্তার করেছে র‌্যাব।মনির হোসেনকে গ্রেপ্তার করেছে র‌্যাব।

অভিযান শুরুর সাড়ে ১২ ঘণ্টা পর আজ শনিবার বেলা সাড়ে ১১টায় সংবাদ সম্মেলন করে র‌্যাব এ তথ্য জানিয়েছে। সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়,মনির হোসেনের বাসা থেকে বিদেশি একটি পিস্তল,চারটি গুলি, চার লিটার বিদেশি মদ,৩২টি নকল সিল,২০ হাজার ৫০০ সৌদি রিয়াল,৫০১ ইউএস ডলার,৫০০ চাইনিজ ইয়েন,৫২০ রুপি,১ হাজার সিঙ্গাপুরের ডলার,২ লাখ ৮০ হাজার জাপানি ইয়েন,৯২ মালয়েশিয়ান রিঙ্গিত, হংকংয়ের ১০ ডলার,১০ ইউএই দিরহাম,৬৬০ থাই বাথ জব্দ করা হয়েছে।

এগুলোর মূল্যমান ৮ লাখ ২৭ হাজার ৭৬৬ টাকা। এ ছাড়া ৬০০ ভরি স্বর্ণালংকার এবং নগদ ১ কোটি ৯ লাখ টাকা জব্দ করা হয়েছে।

গোল্ডেন মনিরের বাসার নিচের পার্কিং থেকে বিলাসবহুল দুটি প্রাডো গাড়ি পাওয়া গেছে।মনির এবং তাঁর পরিবার গাড়ি দুটি ব্যবহার করত।কিন্তু গাড়ি দুটির কোনো বৈধ কাগজ তাঁরা দেখাতে পারেনি।তাঁর মালিকানাধীন অটোকার সিলেকশন থেকে আরও তিনটি অবৈধ গাড়ি জব্দ করা হয়েছে।

র‌্যাবের মুখপাত্র লেফটেন্যান্ট কর্নেল আশিক বিল্লাহ জানান,একটি গোয়েন্দা সংস্থার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে এ অভিযান চালানো হয়।তিনি বলেন,নব্বইয়ের দশকে গাউছিয়া মার্কেটের একটি কাপড়ের দোকানের সেলসম্যান হিসেবে কাজ করতেন মনির।এরপর রাজধানীর মৌচাকের একটি ক্রোকারিজ দোকানে তিনি কাজ নেন।

সে সময় এক লাগেজ ব্যবসায়ীর সঙ্গে পরিচয় হলে মনির লাগেজ ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত হন। ঢাকা-সিঙ্গাপুর–ভারত, এই রুটে তিনি প্রথমে লাগেজে করে কাপড়, কসমেটিক, ইলেকট্রনিকস, কম্পিউটারসামগ্রী, মোবাইল, ঘড়িসহ বিভিন্ন জিনিসপত্র ট্যাক্স ফাঁকি দিয়ে আনা-নেওয়া করতেন। এই কাজগুলো করতে করতে তিনি লাগেজ স্বর্ণ চোরাচালানে জড়িয়ে পড়েন।

বায়তুল মোকাররমে একটি জুয়েলারি দোকান দেন, যা তার এই চোরাকারবারি কাজে সাহায্য করে। সময়ের ব্যবধানে মনির বড় ধরনের স্বর্ণ চোরাচালানকারী হিসেবে পরিচিতি লাভ করেন। তাঁর নাম হয়ে যায় গোল্ডেন মনির। চোরাচালানের দায়ে ২০০৭ সাল বিশেষ ক্ষমতা আইনে রাজধানীর বিভিন্ন থানায় তাঁর বিরুদ্ধে একাধিক মামলা হয়।

আশিক বিল্লাহ বলেন,ভূমিদস্যুতার মাধ্যমে মনির অসংখ্য প্লটের মালিক হয়েছেন। রাজউক থেকে প্লটসংক্রান্ত সরকারি নথিপত্র চুরি করে এবং অবৈধভাবে রাজউকের বিভিন্ন কর্মকর্তাকে দাপ্তরিক কাজে ব্যবহার করে রাজউক, পূর্বাচল, বাড্ডা, নিকুঞ্জ, উত্তরা এবং কেরানীগঞ্জে নামে-বেনামে অন্তত দুই শতাধিক প্লট নিজের করে নেন। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে মনির ৩০টির বেশি প্লটের কথা স্বীকার করেছেন।

মনিরের বাসা থেকে ৬০০ ভরি স্বর্ণালংকার এবং নগদ ১ কোটি ৯ লাখ টাকা জব্দ করা হয়েছে বলে জানিয়েছে র‌্যাব।মনিরের বাসা থেকে ৬০০ ভরি স্বর্ণালংকার এবং নগদ ১ কোটি ৯ লাখ টাকা জব্দ করা হয়েছে বলে জানিয়েছে র‌্যাব।

র‌্যাবের মুখপাত্র আশিক বিল্লাহ আরও বলেন, রাজউকের ৭০টি ফ্ল্যাটের নথি নিয়ে গিয়ে আইনবহির্ভূতভাবে হেফাজতে রাখায় ২০১৯ সালে মনিরের বিরুদ্ধে রাজউক কর্তৃপক্ষ একটি মামলা করে। সেটি চলমান রয়েছে। এ ছাড়া অনৈতিকভাবে দুর্নীতির আশ্রয় নিয়ে বিপুল সম্পদ অর্জন করায় তাঁর বিরুদ্ধে দুদকের মামলা চলছে।

আশিক বিল্লাহ বলেন,প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের ভূমি জালিয়াতি সম্পর্কে মনির বলেছেন, ২০০১ সালে তৎকালীন প্রভাবশালী মন্ত্রী, গণপূর্ত কর্মকর্তা ও রাজউকের কর্মকর্তাদের সঙ্গে অন্তরঙ্গ সম্পর্ক করে তিনি রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে ভূমি জালিয়াতি শুরু করেন।

ঢাকা-সিঙ্গাপুর–ভারত, এই রুটে তিনি প্রথমে লাগেজে করে কাপড়, কসমেটিক, ইলেকট্রনিকস, কম্পিউটারসামগ্রী, মোবাইল, ঘড়িসহ বিভিন্ন জিনিসপত্র ট্যাক্স ফাঁকি দিয়ে আনা-নেওয়া করতেন।এই কাজগুলো করতে করতে তিনি লাগেজ স্বর্ণ চোরাচালানে জড়িয়ে পড়েন। বায়তুল মোকাররমে একটি জুয়েলারি দোকান দেন, যা তার এই চোরাকারবারি কাজে সাহায্য করে। সময়ের ব্যবধানে মনির বড় ধরনের স্বর্ণ চোরাচালানকারী হিসেবে পরিচিতি লাভ করেন।

র‌্যাবের এই মুখপাত্র আরও বলেন,মনির হোসেনকে অবৈধ কাজে কারা সহায়তা করেছেন,সে তথ্যগুলো অনুসন্ধানে তাঁরা দুদক,বিআরটিএসিআইডি ও এনবিআরকে প্রাতিষ্ঠানিকভাবে অনুরোধ জানাবেন।

মনিরের কোনো রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা আছে কি না—এ প্রশ্নের জবাবে আশিক বিল্লাহ বলেন,একটি রাজনৈতিক দলের সঙ্গে তাঁর সম্পৃক্ততা রয়েছে বলে তাঁরা জানতে পেরেছেন। সেই দলটির অর্থ জোগানদাতা হিসেবেও তিনি কাজ করেন। তবে দলের নাম উল্লেখ করেননি আশিক বিল্লাহ।

About ডেস্ক এডিটর

Check Also

মুসলিম নেতা আবদুল নাসেরের অস্ট্রেলিয় নাগরিকত্ব বাতিল

আলজেরিয়ায় জন্মগ্রহণকারী এক মুসলিম ধর্মীয় নেতার নাগরিকত্ব বাতিল করেছে অস্ট্রেলিয়া।২০০৫ সালের এক সন্ত্রাসী হামলা ষড়যন্ত্রে …